শিক্ষা বাজেটের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ: মেধা বাঁচানোর শেষ সুযোগ
শিক্ষা বাজেটের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ: মেধা বাঁচানোর শেষ সুযোগ

মবিনুল ইসলাম রাশা,গবি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণবস্তু ঠিক কোথায় বাস করে? বহুতল ভবনের চকচকে ইটে, দৃষ্টিনন্দন মূল ফটকে, নাকি নতুন জ্ঞান তৈরির ল্যাবে? প্রতি বছর যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জাতীয় পর্যায়ের বাজেট চূড়ান্ত হয়, তখন এই প্রশ্নটি ঘুরপাক খায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দৃশ্যমান অবকাঠামোর প্রতি আমাদের যে প্রবল মোহ, গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের  ততটা মোহ নেই। একটা বিশ্ববিদ্যালয় শেষ পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন নান্দনিক সব ভবনের কংক্রিট জঙ্গল হিসেবে পরিচিতি পাবে, নাকি মুক্ত চিন্তার, নতুন নতুন গবেষণার কারখানা হবে—তা নির্ভর করে তার বাজেট বরাদ্দের সুচিন্তার ওপর। আমাদের দেশে বাজেট বরাদ্দ মানেই যেন 'কনক্রিট আর রডের হিসাব'। নতুন একটি পাঁচতলা বা দশতলা হল নির্মাণ, প্রশাসনিক ভবনের আধুনিকায়ন কিংবা ক্যাম্পাসের বাহ্যিক সৌন্দর্যায়ন—এগুলো বাজেট বক্তৃতায় বা বার্ষিক প্রতিবেদনে খুব দ্রুত দৃশ্যমান করা যায়। এতে উদ্বোধনের ফিতা কাটা যায়, দৃশ্যমান উন্নয়নের ক্রেডিট নেওয়া যায়। কিন্তু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে ৩ বছর ধরে চলা ক্যান্সার গবেষণার অগ্রগতি কিংবা একটি নতুন কোনো তত্ত্বকে চাইলেই ফিতা কেটে উদযাপন করা যায় না। আর এই ক্রেডিটের কিংবা ছবির রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ফাদেই বন্দি হয়ে আছে আমাদের শিক্ষা বাজেট। অথচ সাধারন অর্থনীতির চোখ দিয়ে দেখলেও বুঝতে কষ্ট হয় না যে, এটি চূড়ান্ত অদূরদর্শীতার এক উদাহরণ।  একটি ভবন তৈরি হলে তার পেছনে প্রতি বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ে, কিন্তু তা থেকে নতুন কোনো আর্থিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্য পাওয় যায় না। অন্যদিকে, গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়া প্রতিটি টাকা কাজ করে চক্রবৃদ্ধি সুদের মতো। গবেষণা থেকে নতুন প্রযুক্তি তৈরি হয়, নীতি-নির্ধারণের পথ খোলে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বা পেটেন্ট তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো দেশের অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে। ইউনেস্কোর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, একটি দেশের জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ কিংবা জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া উচিত। অথচ আমাদের শিক্ষা বাজেট দুই শতাংশের আশেপাশের কোটাতে আটকে থাকে। আরও বড় ট্র্যাজেডি হলো, এই সামান্য বরাদ্দের সিংহভাগ আবার চলে যায় বেতন-ভাতা আর ইট-পাথরের নতুন ভবন নির্মাণ,  অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে। দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক বাজেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, গবেষণার ভাগ্যে জোটে মোট বরাদ্দের মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে যখন মানসম্পন্ন রিএজেন্ট কেনা বা আধুনিক যন্ত্রপাতি আনার টাকা থাকে না, অথচ পাশের মাঠেই কোটি টাকা খরচ করে নতুন বহুতল ভবনের পাইলিং চলে—তখন বুঝতে বাকি থাকে না, আমাদের উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য হারিয়ে গেছে। আমরা প্রায়ই 'মেধা পাচার' বা ব্রেইন ড্রেন নিয়ে আক্ষেপ করি। কিন্তু একজন তরুণ গবেষক যখন দেখেন তার মেধা প্রমাণের কোনো সুযোগ দেশে নেই, বিশ্বমানের তো দূর—মৌলিক গবেষণার জন্যই তাকে ফান্ড পেতে চাটুকারিতা করতে হচ্ছে, তখন তার সামনে দেশ ছাড়ার আর কোনো বিকল্প থাকে না। কোটি কোটি টাকা খরচ করে দালানকোঠা বানানোর পর যদি ভেতরের মেধাগুলোই হারিয়ে যায়, তবে সেই খালি ভবনগুলো আসলে কিসের প্রতীক? তা কেবল জ্ঞানহীন এক-একটি খোলস বৈ কিছু নয়। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকালে এই অগ্রাধিকারের পার্থক্যটা আরও স্পষ্ট হয়। তাদের কাছে অবকাঠামো মানে শত শত বহুতল ভবন নয়; তাদের অবকাঠামো হলো উচ্চগতির ডিজিটাল ডেটাবেজ এক্সেস, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব, বিশ্বের নামকরা গবেষকদের নিয়ে আসার ফেলোশিপ ফান্ড এবং নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার পরিবেশ। তারা গবেষণা দিয়ে বিশ্ব র‍্যাংকিং পার করে, আর আমরা ভবনের সংখ্যা গুনে মনের আনন্দ খুঁজি। অবশ্য অবকাঠামোর প্রয়োজনকে আমি একদম উড়িয়ে দিচ্ছি না। একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কার্যকর ক্লাসরুম, ল্যাব এবং শিক্ষার্থীদের বাসস্থানের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা বোকামি। কিন্তু অবকাঠামো হওয়া উচিত গবেষণার ‘সহায়ক মাধ্যম’, মূল লক্ষ্য নয়। আমাদের এখন দরকার 'রিসার্চ-ফার্স্ট' অবকাঠামো নীতি। আগে দেখতে হবে ল্যাবে কী সরঞ্জাম দরকার, বিজ্ঞানীদের কাজের পরিবেশ আছে কি না; তারপর ঠিক হবে সেই ল্যাব রাখার জন্য ভবনের প্রয়োজন কতটুকু। যে দেশ তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাজেটে গবেষণার চেয়ে ঠিকাদারি উন্নয়নকে বেশি প্রাধান্য দেয়, সেই দেশ বিশ্বমঞ্চে সস্তা শ্রমের যোগানদার হতে পারে, কিন্তু কখনো জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে না। ভবনের স্থায়িত্ব শত বছর হতে পারে, কিন্তু সেই ভবনের ভেতরে যদি নতুন জ্ঞান তৈরি না হয়, তবে ইতিহাস তাকে কেবল 'ইটের স্তূপ' হিসেবেই মনে রাখবে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে—আমরা কি ইট-পাথরের মিস্ত্রি হব, নাকি আগামী দিনের উদ্ভাবক তৈরি করব?  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ডিআইইউতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন
ডিআইইউতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন

ডিআইইউ প্রতিনিধি:  ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এমবি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে৷  বিজ্ঞ জেলা নির্বাহী আলাদতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে৷  শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মামলার বাদী সাংবাদিক কালাম মুহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন৷ এর আগে তার ওপর হামলার ঘটনায় বাড্ডা থানায় এসব আসামীদের বিবাদী করে সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়৷  জানা গেছে, মামলার এজাহার অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে এমবিএ প্রোগ্রামের মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে। এছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—একই হলের বাধন, মুরাদ পাটোয়ারী, জোবায়ের পাটোয়ারী, প্রত্যয় ও মিনহাজকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামী করা হয়েছে৷ এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে বাড্ডা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে৷  এদিকে এসব আসামীর বিরুদ্ধে লিখিত এবং ভিডিও জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী৷ তারা জানিয়েছেন সেদিন মুরাদ এবং জোবায়ের পাটোয়ারীর ইন্ধনেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে৷  এদিকে, তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগে মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছেন প্লাবন। তবে তার সঙ্গে আত্মীয়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান। এ ছাড়া প্লাবন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন এবং ওই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ রয়েছে৷  এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কালাম মুহাম্মদ বলেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়া এবং নিরাপত্তার আবেদন করার পরেও প্রক্টর আব্দুল কালাম আজাদ সাহেব আমার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ তার অদক্ষতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এর নাম ভাঙ্গিয়ে হলে এই বিবাদীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানা সময়ে অত্যাচার করে আসছেন৷  তিনি বলেন, আমরা ইনসাফ চাই৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তথা প্রক্টরের এই অদক্ষতায়ই আজকের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ পুরো বিষয়টি আমি আইনগতভাবে মোকাবেলা করবো৷ 

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
সাংবাদিক হত্যার হুমকির অভিযোগে ছাত্রদল, ছাত্র আন্দোলন ও বৈছাআ'র নিন্দা
সাংবাদিক হত্যার হুমকির অভিযোগে ছাত্রদল, ছাত্র আন্দোলন ও বৈছাআ'র নিন্দা

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তিনজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী মাহিন অর রশিদ প্লাবন ও তার গ্যাং 'গ্রুপ থার্টি সিক্স' এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাএদল-ডিআইইউ শাখা, ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ- প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি উইং ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-ডিআইইউ শাখা।  শুক্রবার(১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-ডিআইইউ শাখা, ইসলাম ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ- প্রাইভেট ইউভার্সিটি উইং এবং বৈষম্যবিরোধী ছাএ আন্দোলন-ডিআইইউ শাখা তিনটি পৃথক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।  বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন হলে মাদক বিস্তারের নিউজ করায় সাংবাদিক কে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।  বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা হত্যার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। আমরা অবিলম্বে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।  দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে আরও অভিযোগ রয়েছে, প্লাবন কিছু বিপথগামী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘিদিন। ওই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর র‌্যাগিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এই গ্যাংয়ে তিন নং হল ছাড়াও বিভিন্ন হলের ৩৬ জন সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র৷

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ এ.এম
ডিআইইউতে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি: থানায় জিডি
ডিআইইউতে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি: থানায় জিডি

মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় রাজধানীর বাড্ডা থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। তারা সবাই ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা।  বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  জানা গেছে, বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর ওই জিডিতে সঠিক তদন্তের দাবি করেছেন। এ ঘটনায়  প্রয়োজনীয় সকল প্রমাণাদিও সরবরাহ করা হয়েছে। এতে প্লাবন ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনে আসামী করা হয়েছে৷ বাড্ডা থানায় ওই জিডি নম্বর - ৬৮৯।  জানা গেছে, এই জিডির ঘটনায় বাড্ডা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে দেখা করেছেন৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনার সুরাহা করতে ব্যর্থ হলে তদন্ত চেয়ে এই চক্রের বাকি সদস্যদের খতিয়ে দেখা হবে৷  এর আগে এ ঘটনায় হামলাকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবন নামের ওই শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে শোকজ প্রাপ্তির পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।  হাতে আসা নথিতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবন রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার পশ্চিম অন্তরাম অংশের বাসিন্দা মো. মাহবুব অর রশিদ পলাশ এবং মোছা. মাহমুদা বেগমের সন্তান। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০তম ব্যাচের এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী।  জানা গেছে, এর আগেও তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছেন। অবশ্য তার আত্মীয়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নিজেই।  দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্লাবন নামের এই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপথগামী কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং বাহিনী পরিচালনা করে আসছেন। এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর র‌্যাগিংয়ের একাধিক অভিযোগ এসেছে। এই গ্যাংয়ের কয়েকজন সক্রিয় সদস্য মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও বিপদে ফেলতে চায় বলে একটি সূত্রের দাবি।  এদিকে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এমন হত্যার হুমকির ঘটনায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়ের বলেন, আমরা জানতে পেরেছি প্লাবন নামের ওই শিক্ষার্থী শুক্রবার শেষ ভাইভা দিয়ে হল ছাড়বেন। কিন্তু তিনি যে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, সেটার আইনানুগ সুরাহা না হলে সে এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। সাধারণ সকল শিক্ষার্থীরা আমাদের ভাই; তাদের অধিকার নিয়ে আমরা সবসময় লিখেছি। কিন্তু এই ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’-এর অন্য সদস্যদের সকল অনিয়ম নিয়ে আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি।  খায়ের বলেন, তদন্ত কমিটির কাছে আমরা সব প্রমাণাদি দিয়েছি। এর পরেও সঠিক বিচার না করে তাকে যদি সেইফ এক্সিট দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা বিষয়টি পুরোপুরি আইনগতভাবেই মোকাবেলা করবো।  তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবুল কালাম আজাদ সাহেব আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন ভয়ংকর ঘটনায় তিনি পুতুলের মতো ভূমিকা পালন করেছেন। ইনসাফ না করতে পারলে অবশ্যই আমরা আইনগতভাবেই লড়বো।

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ এ.এম
সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষা নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ববিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির মানববন্ধন
সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষা নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ববিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

ববি প্রতিনিধি : তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির প্রগতিবাদে  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নাম্বার গেটের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।  মানববন্ধননে ছাত্রশক্তির নেতারা মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক মনে করেন এবং দ্রুত এই পদক্ষেপ থেকে সরকারকে সরে আসার জন্য অনুরোধ জানান৷ মানববন্ধনে  ছাত্রশক্তির  মুখ্য সংগঠক শহিদুল ইসলাম শাহেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান আল আমিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রশক্তির আরো কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখার সিনিয়র যুগ্ম  আহ্বায়ক  এস এম ওয়াহিদুর রহমান বলেন, "সরকারি তৃতীয়  ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাইবা বোর্ডে পঞ্চাশ শতাংশ মার্ক নির্ধারণ করার মাধ্যমে দলীয় পোষ্য ক্যাডার এবং লেজুর ভিত্তিক যত কর্মী আছে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়ার এক নীল নকশা চলছে। যার ফলে আমাদের চব্বিশ এর কোটা আন্দোলন ব্যর্থ হতে চলছে। এই স্বার্থপরী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি আমরা চাই দেশের সাধারণ মানুষও এই নীল নকশার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাক।" এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, "আমরা দেখতে পেলাম গত নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করার পরে সকল জেলা ও উপজেলায় দলীয় প্রশাসক নিয়োগ করলো। আর এখন সরকারি চাকরিতেও দলীয়করণের চেষ্টা। যেখানে একজন গরীব ছাত্র পড়াশোনা শেষ করে জীবিকা নির্বাহ করবে সেখানে যদি আপনি দলীয়করণ করা শুরু করে দেন তাহলে তা আওয়ামী লীগের কোটা পন্থার চেয়েও ভয়াবহ। এটা কারের সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত। সরকারের উচিত এই সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা, যদি বিবেচনা না করে তাহলে চব্বিশে যেমন আমরা মাঠে নেমেছি তেমন মাঠে নামতে বাধ্য হব।" উল্লেখ্য, গত ৬ই সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি।

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ এ.এম
1
হৃদরোগে ডিআইইউ শিক্ষার্থী ফাহিমের মৃত্যু
2
মৎস্য খাতে বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান
3
অক্ষর পেরিয়ে জীবন: মায়ের কাছে প্রথম পাঠ
4
বাংলাদেশ থেকে দক্ষ মৎস্য জনবল নিতে আগ্রহী ওমান
5
উপসচিব আশরাফুল আফসারের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল
6
আসছে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ, মালয়েশিয়া-মালদ্বীপের নজর কক্সবাজারে
7
সরকারি সংস্থার উদাসীনতায় কেরানীগঞ্জে কৃষিজমিতে অবৈধ আবাসন প্রকল্প
8
সাধারণ সেবাগ্রহীতার বেশে ভূমি অফিসে ডিসি ফরিদা
9
সকল পূজামণ্ডপে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ঢাকার এসপি শামীমার
10
ব্যাচম্যাটের মৃত্যুতে আবেগঘন পোস্ট ডিসি ফরিদা খানমের
11
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন
12
এক পা হারানো অসহায় নার্গিসের পাশে ডিসি ফরিদা
13
পর্যটন: সেকাল, একাল এবং ভবিষৎকাল
14
ইলিশ আমদানি কমাতে বারবার মন্ত্রণালয়ে ‘চিঠি’, তবুও নেই উদ্যোগ
15
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে দেশের প্রথম রোবোটিক সার্জারির অ্যাপ্লিকেশন ইঞ্জিনিয়ার
16
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সেলিম মাহমুদ
17
‘ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে’: এডিসি শামীম
18
রিকশাচালকের ছদ্মবেশে পুলিশ, ১০০ ইয়াবাসহ আটক মাদক ব্যবসায়ী
19
জাতীয় ছাত্রশক্তির লাকসাম উপজেলা কমিটি ঘোষণা
20
ডিআইইউতে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় দায় স্বীকার করে মুচলেকা; হলের সিট বাতিল