স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের আকস্মিক মৃত্যুতে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তার সহকর্মী ও ব্যাচম্যাট, ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আফসারের সঙ্গে নিজের শেষ সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। ফরিদা খানম জানান, মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গান লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজে তার কার্যালয়ে এসেছিলেন আফসার। সেখানে কাজের পাশাপাশি তারা দীর্ঘ সময় গল্প করেন এবং একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। এ সময় আফসার তার পদোন্নতি না পাওয়ার কষ্টের কথাও ভাগ করে নেন। ফরিদা তাকে পরবর্তী পর্যালোচনায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পোস্টে ফরিদা খানম লেখেন, সেদিন বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। আফসারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে খাবারের আয়োজন করা হয়। খাবারের সময়ও আফসার নিজের বিষয়ে না বলে অন্যদের নিয়ে কথা বলছিলেন এবং কয়েকজন সহকর্মীর প্রতি খেয়াল রাখার জন্য ফরিদাকে অনুরোধ করছিলেন। আফসারের সরলতা ও বিনয়ের কথাও স্মরণ করেছেন ফরিদা। তিনি জানান, কার্যালয়ে কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এলে তিনি দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতেন। ফরিদা তাকে ব্যাচম্যাট হওয়ায় এতবার দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে আফসার হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘এটা চেয়ারের সম্মান।’ বিকেল ৪টার দিকে আফসার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চলে যান। তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেন ফরিদা। যাওয়ার সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ছোট উপহারও দেওয়া হয়। দুটি চায়ের কাপের সেই উপহার নিয়ে আফসার জানিয়েছিলেন, তার স্ত্রী ও সন্তানরা সেটি পছন্দ করেছেন। এরপর সন্ধ্যায় আফসার ফরিদাকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি উপহারটি তার স্ত্রী ও সন্তানদের পছন্দ হওয়ার কথা জানিয়ে ফরিদার প্রতি আস্থার কথাও বলেছিলেন। আফসারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ফরিদা খানম। নিজের পোস্টে তিনি লিখেছেন, এতটা তাজা স্মৃতির মধ্যেই প্রিয় মানুষটির চলে যাওয়া যেন সৃষ্টিকর্তার এক অভাবনীয় রহস্য। আফসারকে উদ্দেশ করে ফরিদা খানম আরও লেখেন, ‘এই কি আপনার চলে যাওয়ার বয়স, প্রিয় ভাইটা আমার!’ তিনি প্রয়াত আফসারের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
একসময় নিজের রান্নার হাতের ওপর ভর করেই চলতেন নার্গিস আক্তার লিজ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করে যে আয় করতেন, তা দিয়েই চলত তাঁর জীবন। কিন্তু প্রায় নয় মাস আগে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কেড়ে নেয় তাঁর একটি পা। এরপর একে একে বন্ধ হয়ে যায় কাজ, আয় ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথ। স্বামী নেই, সন্তানও নেই। উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে অনেকটা একাকী জীবন কাটছিল তাঁর। এমন পরিস্থিতিতে নার্গিসের পাশে দাঁড়িয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাঁর হাতে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে এই মানবিক উদ্যোগ নেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। নার্গিসের জীবন সবসময় এমন ছিল না। কর্মক্ষম থাকাকালে নিজের শ্রমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু ডায়াবেটিসের জটিলতায় প্রায় নয় মাস আগে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর বদলে যায় তাঁর জীবন। হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে হারাতে হয় কর্মসংস্থানের সুযোগও। এরপর শুরু হয় তাঁর জীবনের আরেক লড়াই। চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মতো নিয়মিত কোনো আয় নেই। পাশে থাকার মতো পরিবারের সদস্যও নেই। উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে অনেকটা নিঃসঙ্গভাবেই দিন কাটছিল তাঁর। নার্গিসের পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ব। নার্গিসকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলাই লক্ষ্য। তাঁর নিজের আয় ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিসকে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এতে তাঁর দৈনন্দিন চলাফেরা ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখানেই থেমে থাকছে না জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ। নার্গিস যেন শুধু অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই তাঁর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। একটি মুদি দোকান হয়তো অনেকের কাছে খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু নার্গিসের মতো একজন মানুষের জন্য এটি নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ। নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নিজের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকারও একটি অবলম্বন হতে পারে এটি। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নার্গিস। একসময় নিজের শ্রমে জীবিকা নির্বাহ করা এই নারী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে থমকে যাওয়া জীবন আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি একজন অসহায় মানুষকে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার এ উদ্যোগ তাই শুধু একটি হুইলচেয়ার বা আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘটনা নয়। এটি একজন মানুষকে নতুন করে স্বাবলম্বী হয়ে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়ারও একটি উদ্যোগ।
দেশে উৎপাদিত ইলিশসহ রুই, কাতলা, আইড় ও বোয়ালের মতো দেশীয় প্রজাতির মাছ আমদানি না করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার সুপারিশ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফায় চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি৷ সম্প্রতি নানা নথি এবং মৎস ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন দায়িত্বশীলসূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে৷ জানা গেছে,"গত ১২ অক্টোবর ২০২৫ মৎস্য অধিদপ্তরের এফআইকিউসি শাখা হতে উত্থাপিত এবং তৎকালীন ডিজি আ: রউফ কতৃক স্বাক্ষরিতমন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে দেশীয় মাছের আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ৫০ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে কার্পজাতীয় মাছের উৎপাদন ১৮ দশমিক ৬০ লাখ মেট্রিক টন, যা মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ৩৭ দশমিক ০৬ শতাংশ। একই সময়ে মাথাপিছু দৈনিক মাছ গ্রহণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৮০ গ্রাম বেড়ে ৬৭ দশমিক ৮০ গ্রামে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৯০ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে ৬ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত বলেও এতে বলা হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের ওই চিঠিতে বলা হয়, ভারত, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে রুই, কাতলা, ভেটকি, বোয়াল, আইড়, কাঁচকি ও অন্যান্য প্রজাতির হিমায়িত বা চিল্ড মাছ দেশে আমদানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে ইলিশও অতীতে আমদানির অনুমতি পেয়েছে। আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ অনুযায়ী রুই, কাতলা, আইড়, বোয়ালসহ এসব প্রজাতির মাছ আমদানি নিষিদ্ধ নয়। তবে এসব মাছ ঢালাওভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশের অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষ ও মৎস্য খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং জিআই পণ্য। তাই ইলিশ আমদানির সুযোগ না দিয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে এর আহরণ ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া আমদানি করা মাছে ফরমালিন, ভারী ধাতু, অ্যান্টিবায়োটিক, রঞ্জক পদার্থ, প্রিজারভেটিভ, হিস্টামিনসহ ক্ষতিকর উপাদান থাকার সম্ভাবনা খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। দেশে সহজলভ্য দেশীয় প্রজাতির মাছ আমদানি না করা অথবা আমদানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তিন মাসের বেশি ফাইলবন্দি চিঠি সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মৎস্য অধিদপ্তর থেকে চিঠি পাঠানোর পর প্রায় তিন মাসের বেশি সময় পর, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন মৎস্য সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের অতিরিক্ত সচিব (মৎস্য)-কে চিঠিটি মার্ক করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে এরপরও বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। এর মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবারও ইলিশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে ওই চিঠিও এখন পর্যন্ত অগ্রসর হয়নি বলে জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইলিশ আমদানির প্রবণতা নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চল দিয়ে ২ হাজার ১১৮ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমদানি হয় ৭২৩ দশমিক ৮২৫ মেট্রিক টন এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৫৪ দশমিক ২৭৯ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশ আমদানির পরিমাণ বেড়ে ৮ হাজার ১২৫ দশমিক ৬১৭ মেট্রিক টনে দাঁড়ায়। ওই অর্থবছরে এ বাবদ ৬১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮২ দশমিক ৩২ মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া খুলনার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়েও বিভিন্ন অর্থবছরে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৬৬ মেট্রিক টন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭৬৫ মেট্রিক টন এবং চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি কমলেও দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ইলিশ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ৪৩১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের ৩০ জুন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়। তবে প্রকল্পটির অর্থ ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, প্রকল্পে কী কী অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, কোন প্রক্রিয়ায় ইলিশ প্রকল্পের অর্থ বেহাত হয়েছে—এসব বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসতে পারে।’ ড. মো. খালেদ কনক বলেন, বাজারে ইলিশের দাম অন্যায্যভাবে বেড়ে গেলে প্রতি বছরই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সীমিত পরিমাণে ইলিশ আমদানি করে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হয়।তবে আমদানি নির্ভরতা কমানো না গেলে দেশকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এত সম্ভাবনাময় একটি খাত অব্যবস্থাপনার কারণে বেহাত হয়ে যেতে পারে। ফলে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে একটি টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন।’ আমদানি নিষেধাজ্ঞায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধি ইলিশসহ দেশীয় মাছ আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধির বিষয়টিও সামনে আসছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) জেনারেল অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস অ্যান্ড ট্রেডের (GATT) আর্টিকেল ১১-তে শুল্ক, কর বা অন্যান্য চার্জ ছাড়া আমদানি-রপ্তানির ওপর পরিমাণগত নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে বিধান রয়েছে। কোটা, আমদানি বা রপ্তানি লাইসেন্স কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমেও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত। ফলে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধি, দেশের আইন ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। ওয়ার্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের নিয়ম অনুযায়ী- কোনো চুক্তিভুক্ত পক্ষ অন্য কোনো চুক্তিভুক্ত পক্ষের ভূখণ্ড থেকে কোনো পণ্যের আমদানির ওপর, কিংবা অন্য কোনো চুক্তিভুক্ত পক্ষের ভূখণ্ডের উদ্দেশ্যে কোনো পণ্য রপ্তানি বা রপ্তানির জন্য বিক্রয়ের ওপর শুল্ক (duties), কর (taxes) বা অন্যান্য চার্জ ব্যতীত অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ বা বহাল রাখতে পারবে না । এই বিধিনিষেধ কোটা (quotas), আমদানি বা রপ্তানি লাইসেন্স কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যকর করা হোক না কেন, তা নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সাবেক পরিচালক ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, দেশে যে মাছ উৎপাদিত হচ্ছে, বিশেষ সংকট না থাকলে সেসব মাছ বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখেন না। তিনি বলেন, ‘এর পাশাপাশি দেশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়, সে ধরনের পরিকল্পনা নিতে হবে।’ মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে ইলিশের সরবরাহ, ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা, জেলেদের জীবিকা এবং মৎস্যসম্পদের ভারসাম্য - সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমদানি নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নদী ও জলজ পরিবেশ সংরক্ষণ, অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা, জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ভুল, অসত্য ও মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজের সম্মানহানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. শামীম হুসাইন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি ও এর সঙ্গে প্রেরিত নথিপত্রে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনা হলেও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে এসব অভিযোগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এই এডিসি বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে ‘শামীম-কেশবদের ঘুষের হাট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদনে ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে মোট ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে জোয়ার সাহারা মৌজার ০৮/২৩-২৪ নং ভূমি অধিগ্রহণের মামলায় অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। তবে নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৫ মে ২০২৫ তারিখে ঢাকার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. বদরুদ্দোজা শুভ জমির মালিক মো. আব্দুল মান্নানকে এই ক্ষতিপূরণ দেন। যার চেক নং- ১০৯১৪১৮। যেখানে আমি দায়িত্বে ছিলাম না; সেখানে আমার নামে এমন অবান্তর অভিযোগ আনায় স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি চক্র সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে। শামীম হুসাইন বলেন, আমার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ আনা হয়েছে আবদুল্লাহপুর মৌজার ভূমি অধিগ্রহণ ১৮/২৩-২৪ নং মামলার বিষয়ে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এই এল.এ কেসের ক্ষতিপূরণ চেকের অ্যাডভাইস প্রদান করেন ঢাকার তৎকালীন কর্মকর্তা৷ তবে নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে- তিনিও সকল নিয়ম মেনেই এ ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। ফলে যেখানে আমি দায়িত্বেই ছিলাম না, সেখানে আমার নামে এ অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঢাকার এই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) বলেন, তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, নড়াইবাগ মৌজার ০৪/২২-২৩ নং ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় মূল মালিক বাদ দিয়ে তার ভাই জসিমকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এ সময়েও আমি এল.এ শাখার দায়িত্বে ছিলাম না। তবে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে এবং সকল নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্ষতিপূরণ পাওয়া জসিমউদ্দিন আহমেদের অপর সকল ভাই ও বোনেরা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এই ক্ষতিপূরণ দাবি না করে তাদের ভাই জসিমউদ্দিন আহমেদের অনুকূলে এই চেক হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছেন। এমন একটি দালিলিক বিষয় এবং যেখানে আমার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা নেই, সেখানে আমাকে জড়িয়ে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। শামীম হুসাইন বলেন, সংবাদের চার নম্বর অভিযোগে রানাভোলা মৌজার ১৩/১৮-১৯ নং ভূমি অধিগ্রহণের একটি মামলায় অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র হচ্ছে, গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শীর্ষক প্রকল্পের ওই ক্ষতিপূরণ প্রদান করেন তৎকালীন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোছা. ফুয়ারা খাতুন। এ বিষয়েও আমার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে জড়ানো হয়েছে তথ্য যাচাই না করেই। তিনি আরও বলেন, এছাড়া পাঁচ ও ছয় নম্বর অভিযোগে ঘোপ দক্ষিণ এবং কামার ঘোপ মৌজার দুটি ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় জমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের বিষয়ে পাট মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু এখানেও আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, এ ঘটনায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এবং ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুটি পৃথক চিঠিতে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই এ ক্ষতিপূরণ দেন৷ এমন অপ্রাসঙ্গিক ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এখানেও আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। শামীম হুসাইন আরও বলেন, আমি ২০২৬ সালের ১৭ জুন এল.এ শাখায় যোগদান করি। কিন্তু ছয়টি ঘটনার সঙ্গেই ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার যোগদানের আগের সময়ের অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো রকম যাচাই ছাড়াই আমাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেদনে দুদকের মামলার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কখনোই দুদকের মামলা হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ২০২০ সালের ১০ মার্চ স্পেশাল মামলা নং- ০০৬/২০২০-এ আমাকে ২৪ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নথিপত্রে এই মামলায় মোট আসামি ৩ জন। এদের মধ্যে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। দুদক এই তদন্ত গ্রহণও করেনি। এছাড়া কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীর উত্তরপাড় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দক্ষিণপাড়ে বেশি মূল্যের জমিতে প্রকল্পের জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সকল নথিপত্রে দেখা গেছে, সেখানেও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেকের নির্দেশেই এই জায়গা স্থানান্তর হয়। যদিও ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ীই এই সুপারিশ করেন প্রকল্প পরিচালক। এর বাইরে ৫২/১৯৮৬ রিসিভারকৃত জমি ব্যক্তির নামে দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, এ বিষয়ে আদালতের ডিক্রি জারি ছিল এবং রিসিভার মামলা ছিল না। ফলে এখানেও ভুল ও মনগড়া তথ্য দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটু ভুল তথ্য মানুষের মনে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে৷ ফলে সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত৷
সিহাব আহমেদ উপজেলা প্রতিনিধি : রিকশাচালকের ছদ্মবেশে মাদক কিনতে গিয়ে এক কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানা পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার কাশেমগঞ্জ বাজারসংলগ্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছ থেকে সম্রাট নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সম্রাটকে আটক করতে অভিনব কৌশল নেয় শশীভূষণ থানা পুলিশ। অভিযানে পুলিশের এক সদস্য রিকশাচালকের ছদ্মবেশে মাদক কেনার কথা বলে সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের দাবি, কথাবার্তার একপর্যায়ে সম্রাট মাদক নিয়ে নির্ধারিত স্থানে এলে ছদ্মবেশে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটকের পর সম্রাটকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবাসহ থানায় নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শশীভূষণ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।